Eastern India’s First Made-in-India MyCLIP TEER Implant Performed at Manipal Hospital EM Bypass

By West Bengal Health Info
কলকাতা | ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

পূর্ব ভারতের হৃদরোগ চিকিৎসার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হল মণিপাল হাসপাতাল, ইএম বাইপাসে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি MyCLIP TEER (Transcatheter Edge-to-Edge Repair) সফলভাবে প্রতিস্থাপন করে পূর্ব ভারতে প্রথমবারের মতো এই উন্নত মিনিমালি ইনভেসিভ চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োগ করল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এই ঐতিহাসিক চিকিৎসা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে আসানসোলের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী এক প্রবীণ রোগীর শরীরে, যিনি গুরুতর মাইট্রাল রিগারজিটেশন, ডাইলেটেড কার্ডিওমায়োপ্যাথি ও হার্ট ফেইলিওরের মতো জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা (LVEF) ছিল মাত্র ২৫ শতাংশ, ফলে প্রচলিত ওপেন-হার্ট সার্জারি তাঁর ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

এই অবস্থায় বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া হয় MyCLIP TEER পদ্ধতি—যা হৃদযন্ত্রের মাইট্রাল ভালভের লিকেজ কমিয়ে হার্টের কাজের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে।

অভিজ্ঞ চিকিৎসক দলের নেতৃত্বে জটিল প্রক্রিয়া

এই জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেন ডা. দিলীপ কুমার, ডিরেক্টর ক্যাথ ল্যাব ও সিনিয়র ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট এবং ডিভাইস ও স্ট্রাকচারাল হার্ট বিশেষজ্ঞ, মণিপাল হাসপাতাল, ইএম বাইপাস।
তাঁর সঙ্গে মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম হিসেবে যুক্ত ছিলেন ডা. প্রকাশ কুমার হাজরা, ডা. রবিন চক্রবর্তী এবং ডা. অনিল কুমার সিংঘি।

চিকিৎসক দলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সফলভাবে MyCLIP (LW-12/6) ডিভাইস প্রতিস্থাপন করা হয়, যার ফলে গুরুতর ভালভ লিকেজ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে।

‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগে খরচ কমে সাধারণ মানুষের নাগালে

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, MyCLIP ডিভাইসটি ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় দেশেই তৈরি হচ্ছে। এর আগে এই ধরনের ডিভাইস বিশ্বজুড়ে মাত্র দুটি সংস্থার দ্বারা প্রস্তুত হওয়ায় চিকিৎসার খরচ ছিল প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা।
বর্তমানে দেশীয় উৎপাদনের ফলে খরচ কমে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকায় নেমে এসেছে।

রোগীর আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা করে ডিভাইস প্রস্তুতকারী সংস্থা, মণিপাল ফাউন্ডেশন এবং অন্যান্য সামাজিক সংস্থার সহায়তায় চিকিৎসা ব্যয় আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হয়—যার ফলে রোগীর উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়েনি।

দ্রুত সুস্থতা ও নতুন জীবনযাত্রা

চিকিৎসার পর রোগীর শ্বাসকষ্ট, বুকের চাপ ও ক্লান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। মাত্র দু’দিনের মধ্যেই তিনি স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যান।

এই সাফল্য শুধু একটি চিকিৎসাগত অর্জন নয়, বরং দেশীয় মেডিক্যাল প্রযুক্তি কীভাবে উচ্চ ঝুঁকির হৃদরোগীদের জন্য জীবনরক্ষাকারী সমাধান এনে দিতে পারে, তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

বিশেষজ্ঞের মতামত

প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে ডা. দিলীপ কুমার বলেন,
“গুরুতর মাইট্রাল রিগারজিটেশন রোগীর জীবনমান ও আয়ু—দু’টিকেই মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। MyCLIP TEER একটি নিরাপদ ও কার্যকর মিনিমালি ইনভেসিভ বিকল্প, বিশেষ করে যেসব রোগীর ওপেন-হার্ট সার্জারি করা ঝুঁকিপূর্ণ।”

রোগী নিজেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,
“এই চিকিৎসার আগে প্রতিটি শ্বাস নেওয়া কষ্টকর ছিল। এখন আমি আবার স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছি ও শান্তিতে ঘুমোতে পারছি।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *