২৩ বছর পর রাজ্যে অ্যাপোলোর দ্বিতীয় হাসপাতাল নরেন্দ্রপুরে, আউটডোর শুরু মার্চে
দীর্ঘ ২৩ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের দ্বিতীয় হাসপাতাল চালু করতে চলেছে অ্যাপোলো হাসপাতাল গোষ্ঠী। ই এম বাইপাসে প্রথম হাসপাতাল শুরু হয়েছিল ২০০৩ সালে। এবার মূল কলকাতার সংলগ্ন নরেন্দ্রপুরে তৈরি হয়েছে নতুন মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতাল, যা দক্ষিণ কলকাতা ও সংলগ্ন শহরতলির রোগীদের জন্য বড় সুবিধা আনতে চলেছে।
কবে শুরু হচ্ছে পরিষেবা?
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৫ মার্চ থেকে আউটডোর (OPD) পরিষেবা শুরু হবে। এপ্রিলের শেষদিকে ইনডোর (IPD) চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে থাকছে ২৫০ শয্যা, যার মধ্যে ৬৫টি ক্রিটিক্যাল কেয়ার বেড। ধাপে ধাপে বেড সংখ্যা বাড়িয়ে ভবিষ্যতে ৪০০ শয্যা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
কোন কোন বিভাগ থাকছে?
প্রথম পর্যায়ে চালু হচ্ছে ৮–৯টি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ, যেমন—
জেনারেল মেডিসিন
জেনারেল সার্জারি
ফুসফুসের চিকিৎসা (পালমোনোলজি)
কার্ডিওলজি
গ্যাস্ট্রো মেডিসিন ও গ্যাস্ট্রো সার্জারি
ইউরোলজি
ক্রিটিক্যাল কেয়ার
ক্যান্সার চিকিৎসা (মেডিক্যাল ও সার্জিক্যাল অঙ্কোলজি, রেডিয়েশন, হেমাটো অঙ্কোলজি)
এই বিভাগগুলির মাধ্যমে দক্ষিণ কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার রোগীরা উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন স্থানীয়ভাবে।
বেসরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ
বর্তমানে পূর্ব ভারতের বেসরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দক্ষিণ ভারতের তিন বড় হাসপাতাল গোষ্ঠীর প্রভাব স্পষ্ট—অ্যাপোলো, মণিপাল এবং নারায়ণা হেলথ। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অধিগ্রহণের মাধ্যমে মণিপাল তাদের উপস্থিতি জোরদার করেছে। অন্যদিকে, নারায়ণা হেলথও একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।
এই প্রেক্ষাপটে নরেন্দ্রপুরে অ্যাপোলোর নতুন হাসপাতাল চালু হওয়া বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে সার্দান বাইপাস সংলগ্ন দ্রুত বাড়তে থাকা শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত আবাসিক এলাকায় হাসপাতালটি হওয়ায় রোগীর চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই রাজারহাট-নিউটাউন এলাকায় একাধিক কর্পোরেট গোষ্ঠী বড় মাপের মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতাল চালু করার পরিকল্পনা করছে। ফলে বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে চলেছে।



