মেরুদণ্ডের গুরুতর সমস্যায় আক্রান্ত দু’জন রোগীর সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হল কলকাতার মণিপাল হাসপাতাল, মুকুন্দপুরে। রোগীদের মধ্যে একজন ৬৭ বছর বয়সি প্রৌঢ়া এবং অপরজন মাত্র ১৪ বছরের এক কিশোরী। সময়মতো উন্নত চিকিৎসা ও দক্ষ অস্ত্রোপচারের ফলে দু’জনেরই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ খুলে গেল।
দীর্ঘদিন ধরে তীব্র কোমর ও মেরুদণ্ডের যন্ত্রণায় ভুগছিলেন ওই প্রৌঢ়া। স্নায়ুর উপর প্রবল চাপ পড়ায় ব্যথা পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং পাঁচ মিনিটের বেশি হাঁটাও তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। দৈনন্দিন কাজকর্ম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। মণিপাল হাসপাতাল, মুকুন্দপুরের স্পাইন সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও ক্লিনিক্যাল লিড ডাঃ অনিন্দ্য বসুর তত্ত্বাবধানে তাঁর ক্ষেত্রে মিনিমালি ইনভেসিভ হোল টিউবুলার লাম্বার ফিউশন সার্জারি করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর ধীরে ধীরে যন্ত্রণা কমতে শুরু করেছে এবং হাঁটাচলার ক্ষমতাও ফিরছে।
অন্যদিকে, মাত্র ১৪ বছর বয়সি কিশোরীটি মেরুদণ্ডের যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর স্নায়বিক সমস্যায় ভুগছিল। সংক্রমণের ফলে মেরুদণ্ডের হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেখানে জমাট বাঁধা পুঁজ স্পাইনাল কর্ডের উপর চাপ সৃষ্টি করছিল। এই অবস্থায় দ্রুত অস্ত্রোপচার না হলে স্থায়ী পক্ষাঘাতের ঝুঁকি ছিল। জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করে সেই চাপ মুক্ত করা হয়, যার ফলে প্রাণে বাঁচে কিশোরী এবং স্নায়বিক জটিলতাও নিয়ন্ত্রণে আসে।
চিকিৎসকদের মতে, এই দুই ক্ষেত্রেই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, আধুনিক অস্ত্রোপচার পদ্ধতি এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসক দলের সমন্বয় রোগীদের জীবন রক্ষা করেছে। মণিপাল হাসপাতাল, মুকুন্দপুরে এ ধরনের জটিল মেরুদণ্ডের রোগের চিকিৎসা এখন আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ও দক্ষতায় সম্ভব হচ্ছে—যা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।



